খলনায়ক

৮ জানুয়ারি , ২০২১

প্রতিটি টিপিকাল গল্পে একজন নায়ক এবং খলনায়ক অবশ্যক। কিন্তু বিভিন্ন গল্পকার প্রমাণ করে দিয়েছেন যে বাঁধাধরা ছকের বাইরে গিয়ে হয়তো শুধুমাত্র একজন খলনায়ককে নিয়েই গল্প বা চলচিত্র হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন চলচিত্র বা গল্প প্রমাণ করে দিয়েছে যে দর্শক বা পাঠক খলনায়কদের বড্ড ভালবাসে (যদি না সে একাবারে 'খারাপ' কিছু করে যেমন - ধর্ষণ বা কোনো অসহায়, নির্দোষ ব্যক্তির উপর অত্যাচার করা ইত্যাদি ) , কিন্তু কেন -

এর উত্তর কিন্তু লুকিয়ে আছে মানুষের মনের গভীরে। প্রথমত আমরা আস্তে আস্তে দেখে দেখে বুঝতে শিখেছি যে কেউ একেবারে "ভালো" বা একেবারে "খারাপ" হয়না , এ বিশ্বে একেবারে সাদা বা একেবারে কালো নেই সবাই ধূসরের শেড বা রঁজন বৈচিত্র্য মাত্র।

কিন্তু বেশিরভাগ গল্পেই দেখা যায় , নায়ক একেবারে ন্যায়ের প্রতিমূর্তি , ধবধবে সাদা তার চরিত্র কিন্তু এ তো বাস্তব নয় , এ সম্ভবও নয়। আবার অন্যদিকে একজন খলনায়ক, তার চরিত্র যদি হয় ধূসর , তার মধ্যে যদি কিছু হৃদয়বান গুন দেখা যায় তাহলেই সেই খলনায়ক হয়ে ওঠে পাঠকের বা দর্শকের অতিপ্রিয়।

আবার এও হতে পারে , পাঠক দর্শকের মনের ভেতর সুপ্ত শয়তানি দিকটা যেটা ফুটে উঠতে পারেনি নৈতিকতার চাপে সেটা প্রস্ফুটিত হয় খলনায়কের চরিত্রের মধ্যে দিয়ে।

"খলনায়করা আসলে ভাঙ্গাচোরা নায়ক" - আমরা যখন "জোকার" সিনেমাতে যখন একজন সাধারণ নির্দোষ মানুষকে একজন দুর্ধর্ষ খলনায়কে পরিণত হতে দেখি তখন আমরা দর্শক হিসাবে তার যাত্রার সাথে অবচেতন স্তরে সংযুক্ত হতে পারে । এই জন্যেই জোকার চরিত্র আমাদের কাছে এত প্রিয়।

আবার কোনো চরিত্রের ভালো খারাপ কাজ কে আমাদের নিজস্ব নৈতিক কম্পাস দিয়ে যাচাই করি । কোনোক্ষেত্রে যদি খলনায়কের কোনো "খারাপ" কাজ করার পেছনে যদি সঠিক যৌক্তিক কারণ দেখানো হয় তাহলে সেই কাজকে আমরা খারাপের শ্রেণিবিভাগ থেকে দুরে রাখার চেষ্টা করি

এছাড়াও অন্যতম মুল একটি কারণ হচ্ছে , খলনায়কের চরিত্র যদি বাস্তাবানুগ হয় তাহলে আমরা তাদের পছন্দ করি। তারাও কোনো সুযোগ পায় যারা তা অতিসহজেই নিয়ে নেই যেগুলো আমরা নৈতিকতার কারণে করতে পারি না কিন্তু মনের গভীরে আমরা সেই সুযোগগুলো নিতে চাই।

image

আজ পুরুলিয়া গিয়েছিলাম , পুরুলিয়ার বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমিয়কুমার সেনগুপ্তের সাথে দেখা করার জন্য।

মন্তব্য

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সংরক্ষণ দ্বন্দ্ব!

আমি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

নবীন বরণ