পোস্ট

জানুয়ারী, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সমাজ ও সহশিক্ষা

ছবি
 আমাদের সমাজ সংস্থার এমন কিছু কিছু দিক আছে সমাজ ও মানুষের ওপর এত সূক্ষ্মভাবে প্রভাব বিস্তার করে তা আমাদের মত সাধারণ মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আবার অনেক সময় হয়তো চোখে পড়লেও আমরা সেই বিষয়ে নাক গলাতে চাইনা এইভাবে যে আমাদের সেই ব্যাপারে মাথা ঘামানোর ফলে কোনো ধনাত্মক প্রভাব তো পড়বে না বরং ঋণাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বলে কি হাতে হাত রেখে বসে থাকবো?    না! কখনই না! বর্তমান সময় একটি ভয়ংকর সন্ধিক্ষণ , আমার ভাষায় যাকে বলে "প্রাক-পরিবর্তনের সময়কাল"। এইসময় নানান ধরনের প্রভাবকের উৎপত্তি হবে, যা আমাদের সমাজকে এক নব সমাজের দিকে পরিবর্তনের গতিকে তরান্বিত করবে। তেমনি একটি জিনিস নিয়ে আজ আলোচনা করবো, যাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সমাজের লিঙ্গবৈষম্য অনেকটা হলেও দূরীকরণ হওয়ার পুরো-পুরো সম্ভাবনা আছে -  সহশিক্ষা বা ইংরেজিতে Co-Education, হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের একটি ব্যবস্থা। সহশিক্ষার অভিধানগত অর্থ বলা যায় - একই প্রতিষ্ঠানে একই শ্রেণীকক্ষে একই সময়ে একই শিক্ষক/শিক্ষিকা দ্বারা একই শাসনব্যবস্থার অন্তর্গত হয়ে একই পাঠক্রমের শিক্ষাদানকে সহশিক্ষা বলে। [ সূত্র ] অর্থাৎ সহজ কথ

সমাজ পতন : আসক্তি

ছবি
 আগের দিন " সমাজ সংস্থার পতন " লেখাটিতে আলোচনা করছিলাম বর্তমান সমাজ সংস্থা অর্থাৎ সমাজে মানুষের জীবনধারণের প্রণালির ঠিক কী কী পর্যায়ে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। আগের দিনগুলিতে আলোচনা করেছিলাম সমাজ সংস্থার পতন হবে কি? হলে কিভাবে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার আলোচনার প্রয়োজন ঠিক কী কী কারণের জন্য বর্তমান সমাজ সংস্থার পতন হবে।    সমাজের জীবনযাত্রার উত্থান, পতন ও পরিবর্তনের মুল কারিগর হল ছাত্র যুব সমাজ। তারা শিক্ষিত, তার নতুনের প্রতি আগ্রহী আবার নতুনকে গ্রহণ করতেও দ্বিধাহীন; কিন্তু অন্য দিকে যেহেতু যুবদের মন খুব নমনীয় ও ভেদনীয় তাই তাদের মধ্যেই সমাজের প্যরাসাইটরা সহজেই বাসা বাঁধতে পারে। কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের যুবসমাজের ভাবনাচিন্তা ও মানুষিকতার দ্বারা খুব সহজেই ভবিষ্যতের আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে।  বর্তমান যুব সমাজ নিয়ে আমি খুব শঙ্কিত। তারা আসক্ত আবার সেই আসক্তিকে তারা সর্বদা ন্যায়সঙ্গত ও মহিমান্বিত প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে। তাছাড়া তারা কখনই এও স্বীকার করে না তারা আসক্ত ফলস্বরূপ তাদের সেইসব আসক্তি কখনও শেষ হয় না, যেখানে কোনো সমস্যাই নেই সেখানে সমাধানের কি কাজ!? তবে এখানে মনে রাখা উচিত, আম

বিরতি #৩

 কালকের লেখা প্রসঙ্গে মনে হল আরও গভীর চিন্তার প্রয়োজন। তাই মনে হল আজ বিরতি নেওয়া প্রয়োজনীয়।  লেখা/ ছুটি ~ পলাশ বাউরি 

সমাজ সংস্থার পতন

ছবি
আমি কদিন আগে " সমাজ সংস্থার প্যরাসাইট " তে লিখেছিলাম বর্তমান সমাজ সংস্থার পতন অবশ্যম্ভাবী। সেই লেখা কিন্তু আমি অনেক কিছুই উহ্য রেখেছিলাম তাই মনে করলাম কিছু বিষয় আরও পরিষ্কার করার প্রয়োজন।  সর্বপ্রথম যেটা পরিষ্কার করা প্রয়োজনীয়, সেটা হলো সমাজ সংস্থা বলতে আমি কি বুঝিয়েছি। তবে সেটা বোঝার আগে আমাদের বুঝে নেওয়া উচিত সমাজ কাকে বলে। আমার মতে, সমাজ হল কয়েকটি পরস্পর নির্ভরশীল মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ, নিয়মবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ গোষ্ঠী। আবার বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্কলিন গিডিংসের মতে, "সমাজ বলতে সেই সঙ্ঘবদ্ধ মানবগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা কোন সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মিলিত হয়েছে"।    আবার এই কোন সমাজে অন্তর্ভুক্ত থাকা মানুষজন বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ লিখিত বা অলিখিত নিয়ম নীতি মেনে চলেন। সেই নিয়মনীতি সম্বলিত জীবনধারণের যে পথ ধরে চলেন সেই পথসমষ্টির জালকেই সমাজ সংস্থা বলে। সহজ কথায় বলতে, সমাজে জীবনধারণের যে তন্ত্র বা শৃঙ্খলা বর্তমান তাকেই সমাজ সংস্থা বলে।  সমাজ স্থায়ী কিন্তু সদা পরিবর্তনশীল। চিন্তা-ভাবনা, শিক্ষা, বিজ্ঞান হল সমাজের অগ্রগতি ওরফে পরিবর্তনের মুল অনুঘটক। যদিও এইসব পরিবর্তন সমাজের স্থিতিশ

নবীন বরণ

ছবি
প্রায় প্রত্যক কলেজেই নবীন বরণ অনুষ্ঠান হয়। আমাদের ডি.এল.এড কলেজও তার ব্যতিক্রম রইল না। যদিও এখনো দেশ থেকে করোনা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি, ভ্যাকসিন বেরিয়েছে বলেই একটা অগ্রসরমান অতিমারিকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে, তড়িঘড়ির মধ্যে এত জনসমাবেশ করে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রয়োজনীয়তা আমার বোধগম্য হয়না। আরও কয়েকমাস পর, দেশের বেশিরভাগ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়ে নেওয়ার পরেই অনুষ্ঠান করলে আমার মতে তা উপযুক্ত হত। থাক এই ব্যপারটিকে নাহয় কিছুক্ষণের জন্য বাদই দিলাম (!!)।   এটাই প্রথমবার শিক্ষার্থী হিসাবে কলেজ গেলাম। মনের ভেতর একটা চাপা উৎকণ্ঠা তো অবশ্যই ছিল। যাইহোক, কলেজে ঢুকেই একটা বিরাট অসুবিধার সম্মুখীন হলাম, কলেজটি বেশ বড় হওয়ার দরুন, ঠিক কোথায় অনুষ্ঠানটি হবে সেটা খুঁজতেই অনেক সময় লেগে গেল। যাইহোক, স্বাভাবিক নিয়মেই প্রদত্ত সময়ের অনেক পরেই অনুষ্ঠান শুরু হল। বেশ কিছুক্ষণ অনুষ্ঠান চলল। সেই সুযোগে অনেকের সাথে পরিচয়ও ঘটল। তবে কলেজে দেখলাম, ছেলের তুলনায় মেয়ের আধিক্য, সামাজিক উন্নতির দিক থেকে দেখলে যা একটি ভালো দিক। খাওয়া দাওয়ারও ব্যবস্থা ছিল - নিরামিষ ও আমিষ দুই ধরনেরই।  অনুষ্ঠান বেশ ভালো হল। একটা ভালো জিনিস

অদ্ভুত স্বভাব

ছবি
আমার অন্যতম খারাপ স্বভাব হলো , একসাথে অনেকগুলি বই পড়া। যেমন ধরো, আমি সপ্তাহখানেক আগে, কার্ল মার্কসের জীবনী পরছিলাম কিন্তু কি মনে হল সাথে সাথে বরুণ সেনগুপ্তের নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যও পড়তে শুরু করলাম, আবার কালকে আবার এপিজে আব্দুল কালামের অগ্নিপক্ষ শুরু করলাম , সেটাতে আবার একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনার কথা পড়লাম , সেটা পড়লাম। এবার বুঝতেই পারছো, কেমন আজব স্বভাব আমার।   কালকে দুপুরে এপিজে আব্দুল কালামের উইংস অফ ফায়ারের বাংলা অনুবাদ অগ্নিপক্ষ পরছিলাম,  এর আবার প্রথম কিছুটা অংশ আমাদের ক্লাসের ইংরেজি পাঠ্যবইতে ছিল। যাইহোক প্রথম কিছু অংশ জানা থাকলেও পরের অংশগুলি ছিল প্রায় বেরিভাগই অজানা। পড়তে পড়তে অনার বাল্যকালের একটি ঘটনা দৃষ্টি আকর্ষণ করলো -  তার বাল্যকালে সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল তিনজন তাদের মধ্যে একজন ছিল রামেস্বরম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পক্ষী লক্ষণ শাস্ত্রীর পুত্র। তারা তাদের বিদ্যালয়ের ক্লাসের প্রথম বেঞ্চেই পাশাপাশি বসত প্রতিদিন। একদিন হলো কি, তাদের বিদ্যালয়ে একজন নতুন শিক্ষক এলেন , তিনি ক্লাসে ঢুকে একজন পুরোহিতের পুত্র এবং একজন মুসলমানের পুত্র বসে আছে দেখে, কালামকে একেবারে শেষের বেঞ্চে বসিয়ে দ

নেতাজির সাথে কয়েকমুহূর্ত

ছবি
 কাল ছিল মহান বিপ্লবী ও দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন। সেই উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বেশ জমজমাট অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন অনেক বিশিষ্টজন সাথে ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল। এদিন নেতাজির পত্রাবলি সম্বলিত একটা গ্রন্থও প্রকাশ পেল। সাথে একটি অভিনব প্রোজেক্টর শো এর আয়োজন করা হয় - ভিক্টোরিয়া সাদা দেওয়ালগুলিকে পর্দা বানিয়ে নেতাজির জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয় আলোর খেলার মাধ্যমে।    যদিও সব ঠিক ছিল প্রথমদিকে কিন্তু একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, কিছুক্ষণের জন্য সব মাটি করে দেয়। এটি ছিল একটি সরকারি অনুষ্ঠান এবং এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত অতিথিগন কিন্তু কোনো রাজনীতিক দলের প্রতিনিধি নন । কোনো প্রতিনিধিকেই অপমান করা অর্থাৎ আমাদের নিজেদেরই অসম্মান। যাইহোক, কাল কল্পনাপাড়ার অলিগলিতে ঘুরতে ঘুরতে দেখা দেখা পেয়ে গেলাম নেতাজির। বেশ কিছুক্ষণ গল্প করলাম, তবে তিনি আগেই বলেছিলেন যে তার অন্তর্ধান রহস্য সম্পর্কিত কোনো কথা না হলেই ভালো হয়; আমিও রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। শেষে যখন জিজ্ঞেস করলাম আমাদের কথোপকথনের লিপি কি আমার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে প

মুক্তচিন্তক ব্রুনো

ছবি
আমি আজ চোখ বন্ধ করলেই কল্পনা করতে পারি আমি এক অন্তহীন অসীম সমুদ্রে আমার কল্পনার নৌকায় ভেসে চলছি, হাজার হাজার নক্ষত্র আমার চারপাশে ঘুরছে , সে তারাগুলোকে আবার প্রদক্ষিণ করছে কয়েকটা ছোট ছোট গোলক, গ্রহ; মাঝে মাঝে হুস করে উড়ে যাচ্ছে উজ্জ্বল ঝাঁটার মতো কয়েকটা জিনিস, দুরে আবার দেখা যাচ্ছে নানান রঙবেরঙের মেঘের মত জিনিস; কত কত গ্যালাক্সিও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর দুরে গাড় অস্পষ্ট একটা কালো ছোপ ছোপ দেখা যাচ্ছে ওটা মনে হয় কৃষ্ণ গহ্বর। এইসব কল্পনা করতে কার না ভালো লাগে, কিন্তু তুমি শুনলে অবাক হবে আজ থেকে প্রায় ৪২১ বছর আগে রোম দেশে একজন ব্যাক্তিকে জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় শুধুমাত্র এইসব কল্পনা করার অপরাধে! সেই ব্যক্তি ছিল - জিওর্দানো ব্রুনো!   ব্রুনো ছিলেন ইতালি দেশের একজন ডোমিনিকান ধর্মযাজক। তিনি চিরকালই ছিলেন মুক্তচিন্তক ও বিদ্রোহী চরিত্রের মানুষ। কিন্তু সেই সময় ইতালিতে মুক্ত চিন্তাভাবনার স্বাধীনতা জনগণের ছিল না। কিন্তু ব্রুনো এইসব কিছুই না ভয় পেয়ে , বিশ্বকে জানায় আগ্রহী ছিলেন। তিনি এমন অনেক বই পড়তেন যেগুলি সেইসময় ইতালিতে নিষিদ্ধ ছিল। তেমনি চার্চ দ্বারা নিষিদ্ধ একটি লেখা তিনি পড়ছিলেন - বিখ্

সংরক্ষণ দ্বন্দ্ব!

ছবি
সত্যি করে বলছি, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে আমার লেখার কোনোদিনই ইচ্ছা ছিল না। কারণ অনেক, তার মধ্যে কয়েকটি অন্যতম হল - বিষয়টি সমাজের একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিয়েই যে সম্প্রদায়ের অন্তর্গত আমি নিজেই আর তাছাড়া এইযুগে নিজেকে একটু রাজনৈতিকভাবে সঠিক রাখাই ভালো; কে বলতে পারে কোথাও থেকে কোনসময় হঠাৎ করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ছুটে আসতে পারে। যাইহোক, অতশত না ভেবে ঠিক করলাম আজ লিখবই এবিষয়য়ে; কারণ আমার মনে হল লেখা দরকার!   তবে আমি আগেই বলে রাখতে চাই, আমি এখানে তাদের প্রতিটি যুক্তি খণ্ডন করতে এখানে লিখতে শুরু করিনি। আমি শুধু এখানে শুধু এটা আলোচনা করার জন্য যে তাদের মুল বক্তব্যে কোথায় ত্রুটি রয়েছে এবং সেই ত্রুটিপূর্ণ দর্শনকে বাস্তবজীবনে ফলালে কী কী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।  ফেসবুকে বা অন্যান্য সামাজিক মাধামে বিভিন্ন মানুষ বিশেষ করে ভারতীয় সংবিধানের অসংরক্ষিত সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদের একঝড় তুলছে - তাদের দাবি জাতি ভিত্তিক সংরক্ষণ বন্ধ করতে হবে অর্থাৎ  তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্যে যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে সংবিধান প্রণেতাদের দ্বারা সেটি প্রত্যহার করে, উপার্জন বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষ

সমাজ সংস্থার প্যারাসাইট

ছবি
আমি যখন এই লগব্লগটি লেখা শুরু করেছিলাম। আমার মাথায় তখন অনেক উদ্দেশ্য ছিল যেমন ধরো - আমাদের চারপাশে হাজার রকমের সমস্যা জমা হয়ে আছে, কিন্তু আমরা যে কটি সমস্যার কথা জানি , শুনেছি বা দেখতে পাই তার থেকে অনেক বেশি সমস্যা আছে এই সমাজ সংস্থার মধ্যে লুক্কায়িত হয়ে যাদের অস্তিত্ব খুব কম লোকেই অনুভব করতে পারে, আর এদের নিয়ে কথাও খুব কম লোকেই বলে , আর তাই এদের সমাধান আর খুব একটা খোঁজা হয়না। অনাদিকে বেশিরভাগ উন্মুক্ত সমস্যার সমাধান আমরা জানি , কিন্তু অনেক ব্যাক্তিগত বা আর্থ-সামাজিক কারণে সে সমস্যার সমাধান আর প্রয়োগ করা হয়ে ওঠেনা।    কিন্তু আমি এখানে যে ধরনের সমস্যার কথা বলছি, সেগুলি আমাদের সমাজ সংস্থার (System) মধ্যে একেবারে গভীরে লুক্কায়িত হয়ে আছে - একেবারে সমাজের ভিতের খুঁটিগুলিকে পরগাছার মত জড়িয়ে আছে - এতদিন ধরে সমাজের খুঁটিগুলিকে কুরে কুরে খেয়েছে এই পরগাছাগুলি এবং শেষমেষ সমাজের খুঁটির অংশে পরিণত হয়েছে। তাই এতবছর পর খালি চোখে মানুষের পক্ষে আর বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে কোনখান থেকে ঠিক খুঁটি শুরু হয়েছে আর কোনখান থেকে পরজীবীর শুরু। এককথায় বলতে গেলে এই পরজীবীগুলিই এখন সমাজের অঙ্গ হয়ে উঠেছে এবং আমরা স

বিরতি #২

আজ ঠিক করলাম লেখা থেকে একটু বিরতি নি।  আজ ছুটি ছুটি ছুটি / বিরতি বিরতি বিরতি ~ পলাশ বাউরি

ব্যর্থ কি?

ছবি
 আজ সকালে একটা ফেসবুক পোস্ট দেখছিলাম, সেখানে একজন ব্যাক্তি বলছেন , ভারতের স্বাধীনতা ছিল পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীনতা যেখানে বিনা যুদ্ধেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম; ওই ব্যাক্তি আরও বলেছেন যে, ইংরেজরা নাকি গান্ধীর অহিংসা আন্দোলনের ফলে ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তারা ভারত ছেড়ে চলে গিয়েছিল। যিনি পোস্ট করেছেন তার ভুল ধারনা থাকতেই পারে; তাকে বেনিফিট অফ ডাউট ও দেওয়া যেতে পারে কিন্তু যেটা দেখে আরও বেশি অবাক হলাম - পোস্টে আছে শয়ে শয়ে লাইক ও কমেন্ট! ওই পোস্ট ও তার লাইক কমেন্ট দেখে আমার অবস্থা হয়েছিল হাসবো না কাঁদবো 🤷! এগুলো তো ডাহা মিথ্যা খবর - "ফেক নিউজ"। যারা এইসব পোস্ট লেখে এবং এইসব পোস্ট যারা লাইক এবং সমর্থন কমেন্ট করে সেইসব মানুষদের কোনোদিন ইতিহাসের মোটা বই পড়ার সময় থাকে, মোটা বই দেখলেই এরা ভয় পেয়ে যায় । এদের জীবন সীমাবদ্ধ শুধু ঘর-সংসার , চাকরি আর সোশ্যাল মিডিয়ায়। টিপিকাল মধ্যবিত্ত যাকে বলে আর কি।  আমাদের ভারত মায়ের হাতের থেকে ইংরেজ নামক শিকল খুলতে কি রক্তক্ষরণ হয়নি? দেশের স্বাধীনতার জন্য কোনো বিপ্লবী কি শহীদ হয়নি? সুভাষ চন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকি, ভগৎ সিং, ম

দাবি

ছবি
আমরা কদিন আগে খবরের পাতায় দেখেছি, সোফিয়া নামক এক রোবট সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করে। সাথে সাথে প্রথম অমানব যন্ত্র হিসাবে জাতিপুঞ্জের উন্নয়ন প্রোগ্রামের নতুনত্বে বিজয়ী সম্মাননা পায়। সোফিয়া হল এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত উন্নত মানের রোবট। সে মানুষের মত অনেক কিছুই করতে পারে, যেমন মানুষের মত অঙ্গভঙ্গি করা, মুখের অভিব্যক্তি নকল করা ইত্যাদি। এছাড়া সে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর কথোকপথনও চালিয়ে যেতে পারে।  অর্থাৎ এর থেকে বোঝা যাছে যে , সেদিন দূর নয় যখন সোফিয়ার থেকেও উন্নত রোবট আমাদের মাঝেই থাকবে। তাহলে যদি মানুষের সমগুণ বিশিষ্ট সমকক্ষ মেশিন বা রোবট তৈরি হয় তাহলে কী হবে? তারা কি আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে যেমনটা অনেক গল্পে বা সিনেমাতে দেখা যায়। নাকি তারা আমাদের পাশাপাশি থেকে সমাজে জীবনধারণ করতে চাইবে। সেদিনটা এলে ঠিক কী ঘটবে তার সঠিক ধারনা আমাদের নেই তবে সেদিন আসার আগেই আমারা একটা জিনিস করতে পারি সেটা হলো সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা।  কোনোদিন যদি এমন দিন আসে যে , মানসিক ও শারীরিক উভয় দিকেই সমতুল্য মেশিনের জন্ম হল তাহলে , প্রথম যেটি ঘটবে আমার মতে, সে

স্বীকৃতি

ছবি
 ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের নাম শুনেছো? শুনলে ভালো , না শুনলেও খুব একটা অবাক হবো না। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ডাক্তার এবং গবেষক। তিনি ভারতের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় টেস্টটিউব বেবির স্রস্টা বা পথিকৃৎ। কিন্তু তার এই যাত্রা এত সহজ ছিল না। আমাদের মানুষের সহজাত কিন্তু খারাপ স্বভাব হলো অন্যের সাফল্যকে ছোট করে দেখানো এবং তাকে পিছনে টেনে আনা। একইভাবে সুভাষবাবুও সারাজীবন বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা। গতকাল জন্মদিন ছিল এই মহান ব্যাক্তিটির , কিন্তু কজন মনে রেখেছেন তাঁকে!?   ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি , তৎকালীন বিহারের হাজারিবাগ শহরে জন্মগ্রহন করেন তিনি। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস. পাস করেন, ওই বছরই তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকও হন। তিনি দুটি বিষয়ে পি.এইচ.ডি লাভ করেন যথাক্রমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি দেশে ফিরে এসে , ইংল্যান্ডে প্রথম নল-জাত শিশুর জন্মের মাত্র ৬৭ দিনের মাথায় ভারতে প্রথম নল-জাত শিশুর জন্ম দিয়ে বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেন। এই গবেষণা সম্বন্ধে বিদেশে আন্তর্জাতিক বৈজ

মেছো

ছবি
১৬ জানুয়ারি , ২০২১ আমরা প্রায় সবাই জানি যে ভারতের (এবং বাংলাদেশের) জাতীয় পশু হল, বাঘের একটি উপপ্রজাতি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগই জানি না যে , আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেরও একটি রাজ্য পশু আছে - বাঘরোল বা মেছোবাঘ বা মেছোবিড়াল। এই প্রাণীটির অনেক নাম থাকলেও এটি স্থানীয়ভাবে বাঘরোল নামেই অধিক পরিচিত। বাঘরোল অনেকটা বিড়ালের মত দেখতে স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা সাধারণত নদীর ধারে , জলাভূমি বা ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে বসবাস করে। এদের গায়ে চিতা বাঘের মত ছোপ ছোপ দাগ থাকায় অনেকেই এদেরকে চিতাবাঘ ভেবে ভুল করে। এরা সাঁতারে খুব পটু হয় , এদের পছন্দের খাবারও আবার মাছ,  তাই এদের নাম মেছোবাঘ বা মেছো বিড়াল। এমন একটা সুন্দর প্রাণী কিন্তু তুমি শুনলে অবাক, ২০১৬ সালে এদেরকে রেড লিস্টে অসুরক্ষিত বা Vulnerable শ্রেণিভুক্ত করা হয়, কারণ বিগত কিছু বছর ধরে এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে শুধুমাত্র মানুষের অবিবেচিত বৃক্ষচ্ছেদন , জলাভূমিকে বাসজমি বা কৃষিজমিতে রূপান্তর প্রভৃতি কারণের জন্য। প্রতি বছর বাংলাদেশ ও ভারতের গ্রামবাসীরা নির্মম ভাবে মেছোবিড়ালদের মেরে ফেলে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের

মৎস্যশাঁস

ছবি
১৫ জানুয়ারি , ২০২১ প্রথম খণ্ডে আমি আলোচনা করেছিলাম , মাছ কিভাবে অবহেলিত ও নির্যাতিত। অন্যান্য জীবদের জন্যে আমরা যেভাবে সমব্যাথি হয় তার সিকিভাগও আমরা মাছেদের জন্য হইনা। আজকের দ্বিতীয় খণ্ডের আলোচনা শুরুর আগে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা উচিত - ইংরাজি শব্দ Flesh এর বাংলা প্রতিশব্দ কী? সংসদের ইংরাজি-বাংলা অভিধান অনুযায়ী এর বাংলা প্রতিশব্দ হল জীবদেহের মাংস যা সংক্ষিপ্ত হয়ে দাঁড়ায় শুধু মাংস! আবার যদি জিজ্ঞেস করি, Meat শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী? সংসদের ইংরাজি-বাংলা অভিধান থেকে পাই - ভক্ষণযোগ্য মৃগমাংস যা চলতি কথায় আবার সংক্ষিপ্ত হয়ে দাঁড়ায় শুধু মাংস! অর্থাৎ এবার সহজ ভাবেই একটা জিনিস বোঝা যাচ্ছে যে , আমাদের বাংলা ভাষায় জন্য ফ্লেশ বা মিটকে পৃথক করার জন্য একটি নতুন শব্দের প্রয়োজন । আর যতদিন তা না হচ্ছে , আমার মতে Flesh কে প্রাণীশাঁস বলা যেতেই পারে! এবার আমাদের মুল আলোচনায় ফিরে আসা যাক , মাছ বা মাছের প্রাণীশাঁস কেন মাংস নয় ? (উপরের আলোচনাটি মাথায় রাখো , এখানে মাংস বলতে Meat কে বোঝাচ্ছি। ) এটি বহুকাল ধরে চলে আসা একটি বিতর্ক। অনেকের মতে মাছ বা মাছের প্রাণীশাঁস মাংস নয় আবার অনেকে ব

মৎস্যানুভুতি

ছবি
১৪ জানুয়ারি , ২০২১ মাছ - নামটা শুনলেই অনেকের মনেই অনেক রকম ভাবনা মাথায় আসে যেমন সুস্বাদু খাবার , ঘর সাজানোর উপকরণ ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কারো মাথায় আসে না তারাও একটা প্রাণী। তাদেরও আমাদের মত দুঃখ, বেদনা ও অনুভূতি আছে। আমরা যেমন অন্যান্য মাংসজাতীয় খাবারের জন্য অন্তত সামান্যও সমব্যাথি হয় , তেমনটি মাছের ক্ষেত্রে সিকিভাগও হইনা। আমরা মানুষেরা মাছেদের সাথে নিজেদের কে এক সুত্রে মেলাতে পারিনা কারণ আমাদের মধ্যের ভিন্নতা - আমরা ডাঙ্গায় থাকি , ওরা জলে থাকে; আমাদের ফুসফুস আছে, ওদের ফুলকা আছে, আমাদের গায়ে লোম আছে , ওদের গায়ে আঁশ আছে প্রভৃতি প্রভৃতি। কিন্তু এখন যার কারো মনে হতেই পারে , আমাদের সাথে তো গরু , ছাগল , মুরগি এদেরও তো বিস্তর পার্থক্য তাহলে এদের সাথে আমরা নিজেদেরকে কিভাবে মেলাতে পারলাম? সত্যি বলতে এর সঠিক উত্তর আমার জানা নেই , তবে আমার মতে যেহেতু অন্যান্য স্থলচর প্রাণীর সাথে প্রাচীন কাল থেকেই আমাদের সম্পর্ক ছিল এবং এদের জীবনযাত্রা অনেকটা আমাদের মত , এছাড়া তাদের মধ্যে অনেক মানুষ সুলভ গুনও আমরা রোজকার জীবনে পরিলক্ষিত করতে পারি তাই হয়তো আমরা ওদের সাথে এত সহজে নিজেদেরকে একই সুত্রে মেলাতে পারি।  ক

অতিজল

ছবি
১৩ জানুয়ারি , ২০২১ আমরা অনেকেই ছোট বয়স থেকে মা বাবা , পরিবারের লোকজন , এমনকি কিছু ডাক্তারের কাছেও শুনে অভ্যস্ত যে , প্রতিদিন আমাদের প্রচুর প্রচুর জল পান করা উচিত , যত জল পান করবে তত স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। কিন্তু বলব, এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা , এবং অতিরিক্ত জল পান করা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর , অনেকেই এটা শুনে আমাকে পাগল ভাবতে পারে কিন্তু আমি শতভাগ নিশ্চিত সব বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারেরা আমার সাথে সহমত হবে। আমাদের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জল দ্বারা গঠিত। জল আমাদের ঠিক কী কী কাজে লাগে এখানে আর উল্লেখ করলাম না, ইন্টারনেট পাড়ায় প্রচুর এমন ওয়েবসাইট , ব্লগ বা নিউজ পোর্টাল আছে যেখান থেকে তুমি এগুলি জানতে পারো। আজ আমরা এখানে শরীরে জলের উপকারিতা নিয়ে নয় , জলের "অপকারিতা" নিয়ে আলোচনা করব , এমনকি শুনলে অবাক হবে জলপান মৃত্যুর কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। ওকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ড. তামারা হিউ-বাটলারের মতে, আমাদের শরীরের জলের ঘাটতি জানান দেওয়ার একটি নিজস্ব প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হল তৃষ্ণা বা জল পিপাসা। যখনই আমাদের শরীরে জলের পরিমাণ নির্দিষ্ট পরিমাণ কমে যায় তখনই আমাদের তৃষ্ণা লাগে। এবং শু

অভয়

ছবি
১২ জানুয়ারি , ২০২১ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়ংকর ব্যাক্তি কে? অবশ্যই নানা মুনির নানান মত পাওয়া যাবে তবে আমার মনে হয় যে ভয় কে জয় করেছে এবং যার কোনো পিছুটান নেই সে হল সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়ংকর ব্যক্তি। এরকম মানুষ বাস্তব জীবনে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন প্রায় অসম্ভব বলা চলে। তবে গল্পে বা রিলের জীবনে এমন অনেক মানুষেরই খোঁজ পাই আমরা তবে তার মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত চরিত্র হল ডিশি কমিকস -এর বব কেন ও বিল ফিঙ্গার সৃষ্ট ব্যাটম্যান। যেটি আমার সবচেয়ে পছন্দের সুপারহিরো চরিত্র। ব্যাটম্যান বা ব্যাটম্যানের মুখোসের পেছনে থাকা মানুষ ব্রুস ওয়েন হল আমেরিকার কাল্পনিক শহর গথামে থাকা কোটিপতি ওয়েন পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী অনাথ। তার বাবা-মা থমাস ওয়েন ও মার্থা ওয়েন ব্রুসের কম বয়স থাকতেই এক ছিনতাইকারীর গুলিতে নিহত হন। এরপর ব্রুস প্রতিজ্ঞা করে যে সে শহরের সব অপরাধীদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। এই কারণে সে প্রবল মানসিক ও শারীরিক প্রশিক্ষণ শুরু করে। পরবর্তীতে সে প্রযুক্তির সহায়তায় হয়ে উঠে ব্যাটম্যানে। আবার অনেকেরই কৌতূহল হতে পারে যে ব্যাটম্যান নামই কেন? অন্য কিছু নয় কেন? এব্যপারে দুটি তত্ত্ব উঠে আসে , প্রথমটি হল যে যখন ব্র

উমুজা

ছবি
১১ জানুয়ারি , ২০২১ অনেকদিন আগে একটা ভিডিও দেখলাম। আফ্রিকা মহাদেশের কেনিয়া দেশে একটি এমন গ্রাম আছে যেখানে কোনো পুরুষ নেই। আরে শুনতে অবাক লাগে , তাই না ? কিন্তু এটাই বাস্তব। একজন মহিলা একাই এমন একটি গ্রাম তৈরি করেছেন যেখানে পুরুষের প্রবেশ পর্যন্ত নিষেধ , সেখানে আমি পর্যন্ত ঢুকতে পারব না। কেনিয়া দেশে মরুভূমির মাঝে এমন একটি গ্রাম আছে , যার নাম " উমুজা " (উমুজা শব্দটির অর্থ একতা বা Unity) । রেবেকা লোলোসোলি শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য এই গ্রামের পত্তন করেছেন এবং এই গ্রামে কোনো পুরুষ নেই। প্রায় তিন দশক আগে তিনি তার স্বামীর কাছে অত্যাচারিত হন, তার স্বামী তার উপর প্রত্যহ শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত। তারপর তিনি বাইরের জগতে বেরিয়ে দেখেন যে তিনিই একমাত্র অত্যাচারিত নন , তার মত অনেক বিবাহিত মহিলাই শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচারিত হতেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অত্যাচারের সীমা ছাড়িয়ে যেত যেখানে মহিলাদের গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়া হত , বিকৃত করে দেওয়া হত। এই ঘটনাগুলো এত প্রচলিত হয়ে গেছিল যে , যখন রেবেকা প্রশাসনের কাছে সাহায্য চান , সেখানেও তাকে হতাশ হতে হয়। তাই সবাই তাদের হাত গুটিয়ে নীলে রেবেকা ও ১৪ জন অন্

উপকার

ছবি
১০ জানুয়ারি , ২০২১ আমার সবচেয়ে প্রিয় প্রাণীর মধ্যে অন্যতম দুটি হল মৌমাছি এবং গুবরে পোকা। পরিবেশে দুটি প্রাণীরই গুরুত্ব অপরিসীম । কিন্তু এদেরকে যুগ যুগ ধরেই খাটো করেই দেখা হয়। কারণ হয়তো অনেক হতে পারে কিন্তু তাই বলে এদের কাজের মূল্য না দেওয়া তো অপরাধ!! মৌমাছি ও মানুষের সম্পর্ক হাজার বছর পুরানো। সেই প্রাচীন মিশর থেকে মানুষ মৌমাছি প্রতিপালন শুরু করে । কিন্তু বর্তমানের মানুষ প্রযুক্তিতে উন্নতির সাথে সাথে নিজের প্রাচীন বন্ধুকে ভুলে গেছে। মৌমাছি এক গাছের ফুল থেকে পরাগ অন্য গাছের ফুল পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ফল উৎপন্ন করতে ও গাছের বংশ টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে । অর্থাৎ বলা যেতেই পারেই যে মৌমাছি এ বিশ্ব থেকে হারিয়ে গেলে আমরা রোজকার অনেক ফলই পাবো না! অন্যদিকে গুবরে পোকা , নামটা শুনেই অনেকে নাক সিঁটকাবে কিন্তু অনেকেই এর উদার কাজ সম্পর্কে জানে না। গুবরে পোকার একটি প্রজাতি পোকা জঙ্গলে ও অন্যান্য জায়গায় অন্যান্য প্রাণীরা যে মলত্যাগ করে তা পরিষ্কার করে দেয় ফলে স্থানগুলি পরিষ্কার থাকে। আবার অন্য এক প্রজাতির গুবরে পোকা মৃত পোকামাকড় , পড়ে থাকা গাছপালার অংশ ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে অর্থাৎ বলাই চলে যে গুবরে পোকা ন